লক্ষ্যটা ছিল রীতিমতো এভারেস্টসম। ২২৮ রান তুলতে হতো বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। তা করতে পারলে পুরস্কারটাও ছিল বেশ বড়, কোয়ালিফায়ারে একটা জায়গা হয়ে যেত তাদের। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে দুটো সমীকরণই মেলাল বেঙ্গালুরু। তাতেই দলটা গুজরাট টাইটান্সকে টপকে চলে গেছে আইপিএলের কোয়ালিফায়ারে।
লক্ষ্ণৌয়ের বিদায়টা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। একানা স্টেডিয়ামে আজ শেষ ম্যাচে তাদের সামনে ছিল মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়ার হাতছানি।
এই রানকে ‘এভারেস্টসম’ বলা হচ্ছে মূলত বেঙ্গালুরুর ইতিহাসের কারণে। বিরাট কোহলিরা নিজেদের ইতিহাসে এর আগে ২০০ রানের বেশি তাড়া করেছিলেন মোটে ২ বার, ২২৮ রান কখনো তাড়া করতে পারেনি। গুজরাটকে তিনে ঠেলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করতে চাইলে বেঙ্গালুরুর নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে হতো।
এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শুরু থেকেই আগ্রাসী রূপ নেয়। ফিল সল্ট, বিরাট কোহলি, রাজত পাতিদার দ্রুত রান তুলে দলের ভিত গড়ে দেন। তবে ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন অধিনায়ক জিতেশ শর্মা। মাত্র ৩৩ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৬টি ছয়। মায়াঙ্ক আগরওয়ালও ৩৫ বলে ৪১ রান করে তাকে সঙ্গ দেন। শেষমেশ ১৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বেঙ্গালুরু ২৩০ রান তুলে ৬ উইকেটের দারুণ জয় পায়।
এই জয়ে বেঙ্গালুরু আইপিএল ২০২৫-এর লিগ পর্বে দারুণভাবে শেষ করল। তারা চলে গেল কোয়ালিফায়ারে, যেখানে জিতলে সরাসরি ফাইনালে, হারলেও সুযোগ থাকবে দলের। অন্যদিকে, পান্তের অসাধারণ ইনিংসের পরও দলের বোলিং ব্যর্থতার কারণে জেতা হয়নি লক্ষ্ণৌয়ের। পয়েন্ট তালিকার ৭ম দল হয়ে তারা আইপিএল থেকে বিদায় নিল আজ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার