প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাাধিকার কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক বিশাল সচেতনতামূলক ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লার আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নারীর জন্য গাড়ি নিশ্চিতকরণসহ মাদক, বাল্যবিবাহ, নৈতিক অবক্ষয়, মানবিক মূল্যবোধ, গুজব ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরত্বারোপ করা হয়।
কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: আবু রায়হান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নিজাম উদ্দীন। আরও বক্তব্য রাখেন হেসাখাল বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবদুল মতিন, হেসাখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল খায়ের, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মইন উদ্দিন, সাবেক যুগ্ন আহব্বায়ক উপজেলা যুবদল মো: সিহাব খন্দকার ও যুগ্ন আহব্বায়ক উপজেলা যুবদল এ্যাডভোকেট অহিদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেসাখাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সামছুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: আবু রায়হান বলেন, "একটি আদর্শ ও সচেতন সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। বাল্যবিবাহ ও মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি আমাদের সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সমাজে গুজব ছড়াতে দেওয়া যাবে না এবং বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নিজাম উদ্দীন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শিশুদের মাঝে নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। মায়েরা সচেতন হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং ডেঙ্গুর মতো মহামারি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে। সরকারের কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা নিয়ে আমাদের কৃষকরা এগিয়ে যাচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরল হক বলেন, "‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের কাজ করতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বার্তা সুনির্দিষ্টভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা তথ্য অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।"
সমাবেশে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট ও তথ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ফ্যামিলি সমাবেশের শুরুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার