সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুকুরে পড়ে যাওয়া ফুটবল আনতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাসকিন (৮) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তাসকিন ওই গ্রামের রাজমিস্ত্রি নবী হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে স্থানীয় গুনবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বাড়ির পাশের একটি মাঠে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল তাসকিন। খেলার একপর্যায়ে বলটি মাঠসংলগ্ন পুকুরে পড়ে যায়। বলটি তুলে আনতে পুকুরে নামলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে।
কিছুক্ষণ তাসকিনকে দেখতে না পেয়ে সঙ্গে থাকা শিশুরা বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুনবতী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুকুরে পড়ে যাওয়া ফুটবল আনতে গিয়েই তাসকিন পানিতে ডুবে যায়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।"
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার