
মনির হোসেন:
শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই কুমিল্লার বাজারে দেখা মিলছে লাল টকটকে রসালো ফল স্ট্রবেরির। তবে এই ফলের লোভনীয় রঙ ও স্বাদ ছাপিয়ে এখন আলোচনায় এর আকাশচুম্বী দাম। কুমিল্লা নগরীর প্রধান বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের একদম বাইরে চলে গেছে।
নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ বাজার, টমসন ব্রিজ, শাসনগাছা ও চকবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট প্লাস্টিকের বক্সে বা ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে এই বিদেশি ফল। কিন্তু দামের কারণে সাধারণ মানুষ কেবল দেখেই তৃপ্ত থাকছেন।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা দাম শুনে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে চাকরিজীবী আহমেদ শরীফ রাজগঞ্জ বাজারে তিনি বলেন, বাসায় ছোট বাচ্চা স্ট্রবেরি দেখে জেদ ধরেছে। কিন্তু এক কেজির দাম চাচ্ছে ৮০০ টাকা। এই দামে ৪-৫ কেজি অন্য ভালো ফল পাওয়া যায়।
বাধ্য হয়ে মাত্র ২৫০ গ্রাম নিয়েছি।গৃহিণী ফাতেমা জোহরা টমসন ব্রিজে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্ট্রবেরি পুষ্টিকর ফল জানি, কিন্তু ৬০০-৭০০ টাকা কেজি হলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য এটা কেনা অসম্ভব। স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য নেই।শামীম হোসেন (ব্যবসায়ী) কান্দিরপাড়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দামটা অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
বাজারে তদারকি না থাকলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।
বিক্রেতাদের যুক্তি দেখি বলেন সরবরাহ সংকট ও পচনশীলতাকে দায়ী করে নগরীর শাসনগাছা মো. খলিল আমরা যখন পাইকারি বাজার থেকে আনি, তখনই আমাদের ৫৫০-৬০০ টাকা পড়ে যায়।
এরপর পচা বা নষ্ট বের হয়। বাধ্য হয়েই আমাদের একটু লাভে বেচতে হয়।চকবাজারে হানিফ মিয়া বলেন "স্ট্রবেরি খুব নাজুক ফল। একদিনের বেশি থাকলে গলে যায়। এই রিস্ক নিয়েই আমরা ব্যবসা করি। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও অনেক কমে গেছে।
রাজগঞ্জ বাজারের মো. জসিম মিয়া বলেন ঢাকা থেকে মাল আনতে গিয়ে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে গেছে। ৮০০ টাকা কেজি না বেচলে আমাদের চালান ওঠে না। কান্দিরপাড় সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগে অনেকে কেজি ভরে নিতো, এখন ২৫০ গ্রামের প্যাকেটও মানুষ নিতে চায় না। আমরাও অল্প করে মাল তুলছি যাতে লস না হয়।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, স্থানীয়ভাবে স্ট্রবেরির চাষাবাদ কুমিল্লার আশেপাশে কম হওয়ায় বাইরের জেলা থেকে এই ফল সংগ্রহ করতে হয়। ফলে পরিবহন খরচ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, প্রশাসন যেন নিয়মিত বাজার তদারকি করে ফলের দাম স্থিতিশীল রাখে।