মনির হোসেন
নতুন মন্ত্রিসভায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুমিল্লা থেকে তিন হেভিওয়েট নেতা স্থান পাওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ শেষে তাদের নাম ও দপ্তর ঘোষণার পর থেকেই মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে কুমিল্লার রাজপথ।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন পেয়েছেন সবথেকে বড় চমক। তাকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে কুমিল্লা দক্ষিণের সমন্বয়ক হিসেবে দলের জন্য নিবেদিত এই নেতাকে বড় মূল্যায়ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমনকে দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এছাড়া কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের জনপ্রিয় মুখ ও ছয়বারের সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবার প্রথমবারের মতো পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কুমিল্লার কান্দিরপাড়, বরুড়া ও মুরাদনগর এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন বার্তার জোয়ার বইছে।
"কুমিল্লা থেকে একযোগে তিনজন মন্ত্রী পাওয়া জেলার উন্নয়নের জন্য এক বিরাট মাইলফলক। আমরা আশা করি, এই তিন নেতার হাত ধরে কুমিল্লার অবকাঠামো ও কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।"
— কুমিল্লার একজন সচেতন নাগরিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন দলীয় সিদ্ধান্তে এক সময় প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও দলের প্রতি তার আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। একইভাবে জাকারিয়া তাহের সুমন এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক কায়কোবাদ সাহেবের অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভার ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একই জেলা থেকে তিনজন মন্ত্রী পাওয়ার ঘটনাকে কুমিল্লার রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর এই তিন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতার দিকে, যাতে কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার