সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় মিতু আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
নিহত মিতু আক্তার মুরাদনগর উপজেলার গোয়াশাল গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী আনোয়ার হোসেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।
চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই লিটন চাকমা বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"
নিহতের ভাই নিহাদ জানান, স্থানীয় একটি বিস্কুট কারখানায় কাজের সুবাদে পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন চৌদ্দগ্রামের সামুকসার এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে থাকাকালীন স্থানীয় আনোয়ারের সঙ্গে মিতুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর বোন জামাইয়ের পরিবারের সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য হলে গত জুন মাসে তারা মুরাদনগরে চলে যান। সোমবার দুপুরে বোনের মৃত্যুর খবর পান তিনি।
বাড়ির মালিক সামুকসার গ্রামের নজির আহম্মেদ বলেন, "আনোয়ার তার স্ত্রীকে নিয়ে গত মাসে আমার বাসায় ভাড়া ওঠে। রাতে নাইট ডিউটি করে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল সাড়ে আটার দিকে আনোয়ার এসে ডাকাডাকি করে বলে তার স্ত্রী দরজা খুলছে না। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মেঝেতে পড়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।"
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, "এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক স্বামী আনোয়ার হোসেনকে আটকের চেষ্টা চলছে।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার