সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
দক্ষতা, সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ।
সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম এর কাছ থেকে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট ও ১২টি ক্যাটাগরিতে অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দাউদকান্দি মডেল থানা এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবেই ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম সহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, “এই অর্জন আমার একার নয়। দাউদকান্দি মডেল থানার সব কর্মকর্তা ও সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
দাউদকান্দি মডেল থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা মনে করছেন, জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে এ স্বীকৃতি তাদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে দাউদকান্দির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে এ অর্জন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার