সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৯ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছির আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- মফিজুল ইসলাম মফু (৩৮)। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি এপিপি আব্দুল মোতালেব মজুমদার জানান, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ওইদিন দুপুরে নিহতের মা সদর দক্ষিণ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ ঠাকুর বাড়ি সংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে তার স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় মফিজুল ইসলাম মফু ও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ১ মে র্যাব আসামি মফিজুল ইসলামকে চাঁদপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা স্বীকার করে।
এপিপি আব্দুল মোতালেব মজুমদার বলেন, আদালত মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মফিজুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, "মাত্র ১৯টি শুনানির কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় দেওয়া বিচার বিভাগের জন্য অনন্য নজির। আমরা মনে করি বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ এতে সন্তুষ্ট।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার