প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৭:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:২৯ পি.এম
কুমিল্লায় শিক্ষার্থীকে তল্লাশী; উল্টো ২পুলিশসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে গেলো কুবি শিক্ষার্থীরা!
মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা
কুমিল্লা শহরে তল্লাশির সময় পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের দুই সদস্য ও একজন সোর্স রয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ঘটনার মীমাংসা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিনজন হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ। তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সিয়াম ও অর্প।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ওই তিন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তাদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি তারা। শুধু ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানোয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
এ অবস্থায় ভুয়া পুলিশ ও ছিনতাইকারী সন্দেহে ওই তিন ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এএসআই শ্যামল সাহার বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের পরিচয় জানার পর তাদের ছেড়ে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বাসে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান।
পরে আটক তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
এ বিষয়ে কুবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, “পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র সঙ্গে না রাখা এবং প্রশাসনকে না জানিয়ে কাউকে এভাবে তুলে আনা—উভয় পক্ষেরই ঘাটতি ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, পুলিশের নম্বরে যোগাযোগ না করে বাসে করে কাউকে তুলে নিয়ে আসার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি সবাইকে সাম্প্রতিক মব কালচারের রেশ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার