সাব্বির হোসাইন,
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃত মো. মোয়াজ্জেম হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার ছোট কাজরা গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনায় কয়েকজন কারাবন্দী কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালিয়ে যায়। এ সময় মোয়াজ্জেম হোসেনও কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
জানা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলার বিচার শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেফতার এড়াতে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার