মনির হোসেন , কুমিল্লা
কুমিল্লা নগরীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ সকালে নগরীর রাজগঞ্জ ও চকবাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা প্রতিটি দোকানে গিয়ে টাঙানো মূল্য তালিকা যাচাই করেন। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ক্রয় রসিদ পরীক্ষা করা হয়। এসময় দেখা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে পণ্য বিক্রি করছেন এবং সঠিক হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে প্রাথমিক পর্যায়ে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারী কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জরিমানা প্রদান ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, "বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ ক্রেতাদের সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো বিক্রেতা যদি পণ্যের অতিরিক্ত দাম দাবি করেন বা পণ্য মজুদ করেন, তবে দ্রুত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজার তদারকির এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার