প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ১:১৪ পি.এম
কুমিল্লায় বর্গাচাষির ৩০শতাংশ জমির লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা!
মাহফুজ বাবু,কুমিল্লা
কুমিল্লায় হোমনা পৌর এলাকার হরিপুর গ্রামে দরিদ্র বর্গাচাষি সাইদুর ইসলাম নামের এক কৃষকের লাউখেতের লাউগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ফলন্ত কাটা গাছ দেখে মর্মাহত কৃষক সাইদুরের কান্না ছাড়া কিছুই যেন করার নেই আর।
গতকাল (২৪ আগষ্ট) রোববার রাতে পৌরসভার হরিপুর গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।
স্থানীয় লোকজন ও খতিগ্রস্থ কৃষক সূত্রে জানা যায়, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সাইদুর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৩০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করেন। খেতে ফলনও মাত্র শুরু হয়েছিল। হঠাৎ দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে তার খেতের লাউগাছগুলো কেটে ফেলে। সকালে জমিতে গিয়ে কাটা লাউগাছগুলো দেখে কৃষক সাইদুর ইসলাম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
কৃষক সাইদুর ইসলাম জানান, আমার সাথে শত্রুতা করে পরিকল্পিতভাবে আমার লাউখেতের গাছ কেটে আর্থিক ভাবে ক্ষতি করা হয়েছে। এতে আমার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ধারদেনা ও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষ করা ফসল নষ্ট হওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তারও দাবি উঠেছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে।
সংশ্লিষ্ট ব্লকের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সসহকারী কৃষি ককর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইদুর রহমানকে একা ফেলে রাখা হবে না। তার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার