প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:০১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ৪:৩০ এ.এম
কুমিল্লায় পুকুর ভরাটের অভিযোগে ৩জনের কারাদণ্ড; এক্সেকেভেটর ও বালু জব্দ
মাহফুজ বাবু ; কুমিল্লা
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউপি এলাকায় একটি পুকুর ভরাটের সময় মোবাইল কোর্টের অভিযানে তিনজনকে ১মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। এ সময় পুকুর ভরাট কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর (ভেকু) ও ভরাটে ব্যবহৃত বালু জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টায় বিবিরবাজার নজরুল একাডেমির পেছনে রাতের আঁধারে ০.৫৬ একর আয়তনের পুকুরটি অবৈধভাবে ভরাট করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে রাতেই মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা'র নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনজনকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫- এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় পুকুর ভরাটে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি জব্দ করে বিধি মোতাবেক বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়। একইসঙ্গে জব্দ করা বালু প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইতোমধ্যে ভরাট করা পুকুরটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার