মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর আদনান আলতাফ (২৩) নামে এক ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আদনান ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর আদনান তার মাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর গত ২ নভেম্বর রাতে কলেজের হোস্টেল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান আদনান। পরে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আদনানের মা ও কলেজ কর্তৃপক্ষ গত ৩ নভেম্বর বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে। পরিবারের পক্ষ থেকেও তার নিখোঁজের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন উপজেলার মোকাম এলাকায় একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আদনানের মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি তার বলে শনাক্ত করেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। বুধবার সকালে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, একজন বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদনানের মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার