সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
নগরীতে ডিউটিরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক এএসআই আহত হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর থিরাপুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত এএসআই মো. শরীফ বর্তমানে ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে নিয়মিত পেট্রোল ডিউটির সময় থিরাপুকুরপাড় এলাকায় একদল যুবক বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে আতশবাজি ফাটিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছিল। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে ভিড়ের মধ্যে থাকা অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এএসআই শরীফের পিঠে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুলিশের নিয়মিত ডিউটি চলাকালে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এএসআই শরীফ পিঠে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার