স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিনসহ ৯জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভারতীয় ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন নকল সিগারেট ও একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রামে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়। ওই সময় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় মেশিনটি পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়।
পরদিন ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুর সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে চুরি যাওয়া ওই মেশিন ব্যবহার করে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে সিগারেট তৈরির মেশিনটি এবং ভারতীয় ‘মেসি’ ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।
পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রশাসনের অভিযানে পাওয়া সিগারেট তৈরির মেশিনটি আমার জিম্মায় রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্ট চোরের দল মেশিনটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৬ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। গত মঙ্গলবার পুলিশ চৌদ্দগ্রাম থেকে মেশিনটি উদ্ধার করেছে বলে জানতে পেরেছি।”
নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস বলেন, “নাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় একটি ডিপুর সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে চুরি যাওয়া মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মেশিন ও ছয় কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।”
তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার