ডেক্স রিপোর্ট:
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুমিল্লা আঞ্চলিক পর্যায়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৌশলপত্রের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের ধারণা প্রদান এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেন। প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান এবং জিআইজেডের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট আহমেদ মুনতাসিব চৌধুরী।
প্রশিক্ষণে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
প্রশিক্ষণে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০’-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা, অগ্রাধিকার খাত এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে কৌশলপত্র বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
কৌশলপত্রের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরচালিত সেচ পাম্প, ফ্লোটিং সোলার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ জেলার প্রেক্ষাপটে কৌশলপত্রের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে মতামত দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলার জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সবুর হোসেন বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় কৌশলপত্রের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, জেলা পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সমন্বয় জোরদার এবং জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার