প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৪৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ৪:২৯ পি.এম
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আটক৩, তদন্তে নতুন মোড়
মাহফুজ বাবু , কুমিল্লা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এ ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য ও আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে এবং এরপর ফাহিমকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা যায়। তারা প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছিল। ওই ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমের নাম সামনে আসে।
পুলিশ বলছে, আটক তিনজনই বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তাধীন। অর্থাৎ, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের হত্যাকারী হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুরে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
আইফোন ঘিরে তদন্ত
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি। ফলে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—দুই দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ পেয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন, প্রযুক্তিগত তথ্য ও লোকেশন অপ্রতিমের গতিবিধির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের কেউ নির্দোষও হতে পারে, আবার অপরাধে জড়িতও থাকতে পারে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একাধিক সংস্থা তদন্তে
অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, লোকেশন এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হত্যার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিন, আনাস ও ফাহিম—তিনজন পুলিশ হেফাজতে/আটক রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে এবং হত্যার মোটিভ ও জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার