প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৮:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১:৩৬ পি.এম
‘এসিল্যান্ডের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন’: সার্ভেয়ার আসাদুল
ডেক্স রিপোর্ট:
জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক হয়েছেন রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। তবে ফাঁদ পেতে হাতেনাতে আটক করার পরপরই তিনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। দুদক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই সার্ভেয়ার আসাদুল সরাসরি লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি এ ঘুষের লেনদেন করছিলেন।
আটক হওয়ার পরপরই উপস্থিত দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আসাদুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “এসিল্যান্ডের নির্দেশেই আমি ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন।” ঘুষ নেওয়ার পেছনে এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশ ও নির্দেশনা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সার্ভেয়ারের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ও দাবির পর উপস্থিত সেবাগ্রহীতা ও ভূমি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজার বিভিন্ন দাগে অবস্থিত মোট ২৮২ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা পৃথকীকরণ এবং নকশা প্রস্তুতের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুল ইসলাম। কিন্তু পরবর্তী প্রায় ছয় মাস লালবাগ রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে দফায় দফায় ঘুরেও তিনি কোনো সমাধান পাননি। একপর্যায়ে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মনিরুল ইসলামের কাছে এককালীন ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
ঘুষের দাবি শুনে ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম বিষয়টি দুদককে অবহিত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল লালবাগ সার্কেল কার্যালয়ে ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কার্যালয়ে বসে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে সার্ভেয়ার আসাদুল যখন প্রথম কিস্তি হিসেবে ঘুষের এক লাখ টাকা গ্রহণ করছিলেন, ঠিক তখনই দুদকের দল তাঁকে টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে।
আটকের পর সার্ভেয়ার আসাদুল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলামের নাম জড়িয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ায় পুরো ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ সার্ভেয়ারকে আটকের ঘটনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। একই সঙ্গে সার্ভেয়ারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের কোনো পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা মামলার তদন্তে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার