ডেস্ক নিউজ
দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় দেশে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৩ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে ১৩২ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি, যা প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের মোট সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ১ এমএমসিএফডি, যা মোট সক্ষমতার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের দিন সরবরাহ হয় সক্ষমতার ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ। এ হিসাবে একদিনে সক্ষমতা ব্যবহারের হারও বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। পেট্রোবাংলার হিসাবে, আরপিজিসিএলের মাধ্যমে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৩১ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি। ১৫ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয়েছে ৮৫৮ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ একদিনে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ১২৬ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
এসময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেও উৎপাদন সামান্য বেড়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) উৎপাদন ৪৮২ দশমিক ৪ থেকে বেড়ে ৪৮৩ এমএমসিএফডি হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) উৎপাদন ১০০ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৭ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি। তবে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন ১৩৯ দশমিক ২ এমএমসিএফডি-তে অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে, এসময় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর (আইওসি) গ্যাস উৎপাদন সামান্য কমেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইওসিগুলোর উৎপাদন ছিল ৮৯১ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি। পরদিন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮৯ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন ৭২৪ দশমিক ৮ থেকে কমে ৭২০ এমএমসিএফডি হয়েছে।
জালালাবাদে উৎপাদন ১২১ দশমিক ১ থেকে বেড়ে হয়েছে ১২৩ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি। তিতাসের উৎপাদনও ৩২৯ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে ৩৩০ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনে বড় পরিবর্তন না হলেও এলএনজি সরবরাহ বাড়ার কারণেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার