ডেস্ক নিউজ
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চ কোনো দলের নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের লং মার্চ। যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে এই লংমার্চ করার প্রয়োজন হতোনা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের আটদফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাইবান্ধার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ী চৌ মাথার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতো, আমরা লংমার্চ এ নামতাম না। দেশে যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হতো, আমরা লংমার্চ করতাম না, দেশ থেকে যদি দুর্নীতি বিদায় নিতো, আমরা লংমার্চ করতাম না, মানুষ যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, আমার কৃষক ভাইকে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ন্যায্য মূল্যে সার দিত, আমরা লংমার্চ করতাম না, যদি ঘরে ঘরে মানুষ জীবনের নিরাপত্তা পেত আমরা লংমার্চ করতাম না।
প্রিয় দেশবাসী আমাদের এসব দাবি যদি সরকার মেনে নেয়, আল্লাহর কসম লংমার্চের প্রয়োজন হতোনা। এই দাবিগুলো একটাও আমাদের দলের দাবি নয়, প্রত্যেকটা দাবি এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। সরকার যদি এইসব দাবি না মানে। নেয় তাহলে আজ ৮ দফা, কালকে হতে পারে ৯ দফা, এরপর যুক্ত হতে পারে ১০ দফা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব দফা পরিণত হবে ১ দফাতে। আমরা সেই এক দফা এখন চাচ্ছি না। আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। যদি উদয় না হয়। তাহলে অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে, তব পাপ যেন তারে সমভাবে দহে। আমরা ওই পাপের ভাগ নিতে রাজি হব না।
প্রয়োজনে একদফা দাবি আদায়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখনকার লং মার্চ ঢাকা থেকে গ্রামে। প্রয়োজনে যদি বৃহত্তর লং মার্চের ডাক দেওয়া হয় গ্রাম থেকে ঢাকায়। আপনারা কি প্রস্তত আছেন ? আপনারাতো যাবেনই। সারাদেশের মজলুম ভুক্তভোগী মানুষদের নিয়ে নারী-পুরুষ নিয়ে একসাথে রওনা হবেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে মায়েরা লাঞ্ছিত, শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে, আবার তাদেরকে খুন করা হচ্ছে। আমরা আজকে ঢাকা থেকে আসার পথে হাজার হাজার মহিলা রাস্তায় এসে জনসভায় এসে আমাদেরকে তারা সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েছেন। সংহতি জানিয়েছেন। আমরা তাদেরকে মোবারকবাদ জানাই। আমরা আস্থাশীল, মায়েরা যখন দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছে। ইনশাআল্লাহ এই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।
পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার