
সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা আবশ্যিক দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৫৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাহউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মোট ৭৩ হাজার ৮৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১ হাজার ৮৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৯৫৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা- কুমিল্লা ৬০৭ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫৫ জন, চাঁদপুর ২৯৪ জন, ফেনী ১৬৬ জন, নোয়াখালী ৪২৩ জন, লক্ষ্মীপুর ২১১ জন।
এছাড়া কুমিল্লা ও নোয়াখালীর দুটি কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ বলেন, “বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে বাংলা আবশ্যিক দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সার্বিকভাবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।”
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার