এম.আব্দুল্লাহ ::
৫ এবং ৬ জুন, আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত। এই সময়টা অন্য দিনের মতো নয়, এটা আরাফার দিন। দোয়া কবুলের এমন মাহেন্দ্রক্ষণ বছরে একবারই আসে। এই কয়েকটি ঘণ্টা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, যদি আপনি এর কদর করতে পারেন।
এই সময়টুকুতে নিজেকে সব জাগতিক ব্যস্ততা থেকে গুটিয়ে নিন। আপনার ঘরটাই হোক আপনার ইবাদতের দুর্গ। বাইরের কোলাহল, দুনিয়াবি চিন্তা—সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু আরশের মালিকের দিকে মনোনিবেশ করুন। আপনার মনে যা আছে, আপনার যা প্রয়োজন, হালাল যা কিছু আপনার চাওয়ার আছে—সব খুলে বলুন আপনার রবকে। একটা সুতার টুকরো থেকে শুরু করে জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়াটা পর্যন্ত, নির্ভয়ে চেয়ে নিন। কারণ এই দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড়া আপনার সত্যিকার অর্থে আপন কেউ নেই।
আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে বড় দোয়া। এই দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের খুব কাছে চলে আসেন, তাদের ডাক শোনেন এবং তাদের প্রার্থনায় সাড়া দেন। যার যা ইচ্ছা, এই দিনে প্রাণভরে চেয়ে নিন। কারণ কে জানে, সামনের আরাফায় আপনি এই সুযোগ নাও পেতে পারেন। তাই এই অতুলনীয় সময়টাকে হেলায় হারাবেন না।
শ্রেষ্ঠ দোয়ার জিকির: আপনার আত্মিক পাথেয়-
আরাফার দিনে বেশি বেশি করে পড়ুন: لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর।' (তিরমিজি: ৩৫৮৫) এই দোয়াটি শুধু একটি বাক্য নয়, এটি সমস্ত নবীর জিকির। শ্রেষ্ঠ এই দোয়াটি আপনার আত্মিক পাথেয়। নিজের কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন চাওয়ার আগে, এই দোয়াটি অন্তত ২০-৩০ বার পাঠ করে নিন। যত বেশি সম্ভব, এই দোয়াটি পড়ুন। আপনি বাসে থাকুন, রিকশায় থাকুন, হেঁটে চলুন বা যেকোনো কাজ করুন—ওয়াশরুম ব্যতীত সবখানে মনে মনে এই দোয়াটি পাঠ করতে থাকুন।
আরাফার দিনের এই কয়েকটি ঘণ্টা আপনার জীবনের হিসাব বদলে দিতে পারে। এই দিনটি আপনার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তাই আর দেরি না করে, আজ থেকেই, এই মুহূর্ত থেকেই আপনার দোয়া শুরু করে দিন। আপনার প্রতিটি সৎ চাওয়া পূরণ হোক, এই কামনাই করি।
লেখক: সংগঠক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার