ডেস্ক নিউজ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং সীমান্তে বিজিবির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে কথা বলেন বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
সম্প্রতি বিভিন্ন নামে প্রচারিত রোহিঙ্গাদের ফেসবুক পেইজে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, গ্রাম ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিয়ন্ত্রিত শিবিরে আটকে রাখার অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ অক্টোবর আরাকান আর্মির প্রধান ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাখাইনের রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঐ গ্রামের ৫১ জনকে অপহরণের অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি।
রাখাইনে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটলে তার প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়তে পারে। এর আগে মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাতের সময় প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৪ লাখ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি নতুন করে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক পরিস্থিতির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আবারও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটলে বিজিবি কী ধরনের ব্যবস্থা নিবে, এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘ঐ এলাকার সীমান্তের ভূপ্রকৃতি দুর্গম; সেখানে পাহাড় ও জঙ্গলের সমাহার রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’ দ্রুত কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
সীমান্তবর্তী ১৪০০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে বিজিবি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দেশের সীমান্তের ভিতরে আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজিবি সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। কোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার