মোহাম্মদ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার
দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রফিকুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর, পিপিএম-এর নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার বাহাদুর বাজার স্টেশন রোডের হোটেল রাজের ৩০৬ নম্বর কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গোপালগঞ্জ, ভোলা ও রংপুর জেলার চার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি NISSAN Double Cabin Carry Boy পিকআপ, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি কর্ডলেস ড্রিল মেশিন, দুটি কর্ডলেস অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার, ১১টি কাটিং ডিস্ক, চারটি শিট মেটাল কাটার, বিভিন্ন ধরনের রেঞ্চ, স্ক্রু-ড্রাইভার, টেস্টার, হেক্স কী, ড্রিল বিট, ১০টি চাবির থোকায় মোট ৬৭টি বিভিন্ন ধরনের চাবি, সাতটি স্টেইনলেস স্টিলের তালা, দুটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জার, ছয়টি জাম্পার কেবল, মাল্টিপ্লাগ, ক্রোবার, লোহার পাইপ, ‘এল’ আকৃতির লোহার রড, তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, একটি ব্যাকপ্যাক, দুটি রিফ্লেকটিভ সেফটি ভেস্ট এবং পিকআপে ব্যবহৃত ভুয়া ‘জরুরি বিদ্যুৎ’ ও ‘জরুরি টাওয়ারের কাজে নিয়োজিত’ লেখা লেমিনেটেড ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা মোবাইল টাওয়ারের পাওয়ার হাউজে সংরক্ষিত ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও চালক পরিচয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটিত করত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার