মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর
দিনাজপুর আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৩০ জন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত এক জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে তাদের চাকরি নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনাজপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ নূরুজ্জামান-এর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তদারকিতেই এই বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিনাজপুর আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত চাকরি সংক্রান্ত প্রোগ্রামে প্রাণ-আরএফএল-এর এইচআর প্রতিনিধি ও সহকারী ম্যানেজার উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রাথমিকভাবে চাকরি নিশ্চিত করেন। চাকরি পাওয়া সদস্যরা আগামী মাসে প্রাণ-আরএফএলে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।
চাকরি প্রাপ্তদের মধ্যে ওয়েল্ডিং ৬জি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪৩ জন, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (RAC) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪০ জন, অটোমোটিভ মেকানিক্স প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪০ জন এবং মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৭ জন রয়েছেন। তারা সহকারী অপারেটর (RAC), সহকারী টেকনিশিয়ান (RAC), সহকারী ওয়েল্ডার, ড্রাইভার ও সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পান।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের যুগোপযোগী উদ্যোগে বাহিনীতে আধুনিক ওয়েল্ডিং ৬জি প্রশিক্ষণ চালু হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাকরি প্রাপ্তির বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ায় তারা বাহিনীর মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়াও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দিনাজপুর আঞ্চলিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া সদস্যদের মধ্যে মোট ১৫২ জনের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ নূরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “দিনাজপুর জেলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ১৩০ জন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।”
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার