ডেস্ক নিউজ
বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে আগামী বছর থেকে একই ধরনের কর্মসূচি ‘মিডডে মিল’ নামে চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। স্কুল চলাকালীন এসব শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। বাকি উপজেলাগুলোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আগামী বছর থেকে মিডডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
মিডডে মিলে দেওয়া খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাবারের পুষ্টিমান ঠিক রেখে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নতুন কোনো খাবার যুক্ত করতে হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও পুষ্টিমান দুটিই বিবেচনায় নিতে হবে।
খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম চুক্তির বিষয়েও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং সরকার পরবর্তী বছর থেকে পণ্য নিতে পারে।
মিডডে মিল কর্মসূচিতে খাবারের মান নিয়ে বিভিন্ন সময় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কয়েক মাসে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত এক মাসে তিনি নিজে ১২ থেকে ১৪টি জেলা পরিদর্শন করে কর্মসূচির পরিস্থিতি দেখেছেন।
কিছু এলাকায় মিথ্যা প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে খাবারের মান যাচাইয়ে মায়েদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মাদার্স কমিটিকে যুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন মা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একজন শিক্ষক থাকছেন। খাবার গ্রহণযোগ্য মনে না হলে তা ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মায়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তারা যদি এক্সেপ্টেবল না মনে করেন, ইমিডিয়েটলি তারা ফেরত পাঠিয়ে দেবে। এটাতেও আমরা অনেক ভালো রেজাল্ট দেখছি।’
তিনি বলেন, ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের আবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে, তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলটে যদি দেখা যায় মিডডে মিল যুক্ত করলে শিশুদের দ্রুত স্কুলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে, তাহলে ভবিষ্যতে সেটিও বিবেচনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মিডডে মিলের পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের খাদ্যভিত্তিক কয়েকটি ছোট পরিসরের পাইলট কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার