অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবু
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার কথা বলে রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবুকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রায়কালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। গত রাতে বহিষ্কারের পর আজ সোমবার দলের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে তা জানানো হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহমেদ মোশারফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে মিজানুর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে আজ সোমবার ওই ইউনিয়নের সব এলাকায় মাইকিং করে বিষয়টি প্রচার করা হয়।
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ জুলাই রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়িটি ছেড়ে দেননি। এ কারণে বিএনপির সব পদ ও সদস্যপদসহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলাকায় মাইকিং করে সর্তক করা হচ্ছে
এর আগে বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়ি দখলের অভিযোগ এনে আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়কালী গ্রামের চার শতক জমির ওপর প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে দোতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন বেলাল হোসেন। প্রায় চার বছর আগে ওই বাড়ি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেলাল হোসেন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।তখন তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়িতে ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনিও স্বামীর সঙ্গে চলে যান।
আরো জানা গেছে, সেই সুযোগে মিজানুর রহমান বাড়িটি দখলে নেন। পরে বাড়ি ভাড়ার টাকা দেওয়ার কথা বললেও তা দেননি। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, বাড়িটি যে জমির ওপর নির্মিত, সেটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ কারণে তিনি বাড়িটি ছাড়তে রাজি হননি।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি আমার দাদার। ১০ থেকে ১৩ বছর আগে বেলাল হোসেন জায়গাটি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং বেলাল হোসেন রায়কালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আমাদের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। আমি বাড়ি দখল করিনি, নিজেদের জায়গা ফেরত নিয়েছি।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবু
বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো হাতে পাইনি। উপজেলা বিএনপি আমাকে ডেকেছে। তবে সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে সব আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছি।’
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘অন্যের বাড়ি দখল করা বড় ধরনের অপরাধ। যে দলের লোকই হোক না কেন। আমরা তাকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। এরপরও তিনি বাড়ি ছাড়েননি। তাই দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো প্রকার অন্যায়ের সঙ্গে দল আপস করবে না।’
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার