ডেস্ক নিউজ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী জাফর উল্লাহর ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর এবং বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকায় এই সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণের নিমিত্তে আবেদন দাখিলের জন্য কমিশন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহসহ ৬ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এছাড়া দুদকের মামলায় চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
অবরুদ্ধের আবেদনে নথিতে কাজী জাফর উল্লাহর নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের পিএলসি হিসাবে থাকা অর্থের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট অর্থ প্রায় ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকার তথ্য জানিয়েছে দুদক।
অন্যদিকে তার স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্লাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা।
আরেক ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা বা ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থাকার তথ্য রয়েছে।মেয়ে কাজী আফসকা মেহেরিন জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫ টাকা থাকার তথ্যও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা এবং ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার