স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও মৌলভীবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম চৌধুরী তুষারের জামিন বাতিল এবং প্রেসক্লাব থেকে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা প্রতিনিধি শামায়েল রহমান। তিনি জানান, গত ৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়েছে সন্ত্রাসী তুষার, যে ৩৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তুষারের জামিনের প্রতিবাদে কোনো গণমাধ্যম সাড়া দেয়নি। বরং আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও দোসর সাংবাদিকরা এই খবর চেপে রেখে আন্দোলনকারীদের হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।”
প্রতিবাদস্বরূপ আন্দোলনকারীরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে প্রতীকী তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তালার চাবি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ, বকসি ইকবাল আহমদসহ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রেসক্লাব থেকে অপসারণ এবং পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ সুপারের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে কিছু আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক ও অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হকের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের তালা ভেঙে সেটি পুনর্দখল করা হয়েছে। নিয়ামুল হক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’ এবং আওয়ামীপন্থী প্রভাব খাটিয়ে প্রেসক্লাবকে দলীয়করণের অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
সংগঠনের নেতারা জানান, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তানজিয়া শিশির, জাবেদ রহমান, আরিফুল ইসলাম রাব্বি, শাহ মিছবাহ ও রুহুল আমিন।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার