ডেস্ক নিউজ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গরু চুরির চেষ্টাকালে দুই নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুজন পালিয়ে যান।আটক নারীরা হলেন পারভিন আক্তার (৪৫) ও শাহানা আক্তার (৪০)।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পটিয়া থানাধীন ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আটক পারভিনের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এবং শাহানার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় লোকজন ও গরুর মালিক বিজয় মল্লিক জানান, প্রতিবেশীর মাধ্যমে তিনি খবর পান, তার গরুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে ধাওয়া করে খানমোহনা বেলতল এলাকায় গরুসহ চোর সন্দেহে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু বক্কর বলেন, চোর চক্রের দুই নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন পালিয়ে যান।এদিকে ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা কুমকুম দে বলেন, তিন দিন আগে তার তিনটি গরু চুরি হয়েছে। চোর আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। আটক নারীরা তার গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। চুরি হওয়া গরুগুলো ফেরত পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা গরুটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার